28 C
Dhaka
শুক্রবার, ৭ মে ২০২১, | সময় ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

শ্রম আইনে এখনো পিছিয়ে আমরা!

মাহির আমির মিলন
জবি প্রতিনিধি।

বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে!বঙ্গবন্ধুর এমন উক্তিটি আমাদেরকে বলে দেয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবন অতিবাহিত করা কতটা কষ্টসাধ্য।

নজরুলের কুলি মজুর কবিতায়, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়,”দেখিনু সেদিন রেলে,কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!চোখ ফেটে এল জল,এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?হ্যাঁ,এমনি হাজারো সত্য কাহিনী আমাদের সমাজে অহরহ দেখা যায়। হয়তো দু’একটা ঘটনা মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের নজরে আসে বেশিরভাগ গল্প রয়ে যায় অন্তরালে। 

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা সচারাচর মে দিবস নামে অবিহিত। প্রতি বছর পয়লা মে তারিখে সারাবিশ্বে এটা উদযাপন করা হয়৷ এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের দিবস যা শ্রমজীবী সংগঠন গুলো নানা আয়োজনের এবং শোভাযাত্রার মাধ্যমে পালন করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরো ৮০ দেশে পয়লা মে ছুটির দিন আর অন্য দেশগুলোতে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের। হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

এর পরপরই ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। পরে, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পয়লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে “শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না-থাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবি জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চিন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেসব দেশে এমনকি এ উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে।

আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমদিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোক্তা। হে মার্কেটের হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যেকোনো আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।

ইতিপূর্বে এই রকম অসংখ্য লেখালেখি পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও আমাদের দেশে এখনো আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের পরিপন্থী কাজ গুলো দিনের পর দিন চলমান। এই নিয়ে যেন, কারো মাথাব্যথা নেই। একটা ঘটনা ঘটবে তা নিয়ে কিছুদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবে কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি মিডিয়া সরগরম হবে টকশোতে। বাস্তবতার বেড়াজালে সেটা অন্য আরেকটা ইস্যু নিয়ে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাবে অগোচরে। এভাবে আর কতোদিন চলবে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতিচ্ছব। বস্তুত পৃথিবীর অন্যসব দেশের মতো আমাদের দেশেও উচিত শ্রম আইনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা। তাছাড়াও শিশু শ্রম বন্ধ করা অথচ সময়ের পালাক্রমে ভুলে গেছি আমর। সে সাথে শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান পূর্বক শ্রমের ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া৷

মুজিববর্ষের অঙ্গিকার,” শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ ফিরে পাবে ন্যায়সঙ্গত অধিকার”। এমন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আমাদের আগামীর সুন্দর, সাবলীল বাংলাদেশ গড়তে শ্রমজীবী মানুষদের প্রয়োজনে সরকারের উচিত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহন করা। তাঁরা হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতির মূল চালিকা শক্তি।  আমাদের সবসময় যে শ্রমের মানুষই হোক না কেন, তাঁর সাথে সম্মানের সহিত কথা বলা এবং কাজ শেষ হলে যথাযথ পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া। সে সাথে আমাদের দেশের গার্মেন্টেস গুলোতে এখনো ১২ ঘন্টা কাজ করতে হয় একজন শ্রমিককে যা বরাবরের মতো অমানবিক বিষয়। গার্মেন্টেস সেক্টর হচ্ছে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ সুতরাং এসব শ্রমিকদের সস্তা শ্রম বিক্রি করে একশ্রণির লোকেরা রাতারাতি বড় হচ্ছে। আমাদের এখনি এইসমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে নতুবা কখনোই আন্তর্জাতিক মহলে আমরা সমাধিত হতে পারবো না৷ 

আরও পড়ুন...

নোবিপ্রবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় ব্যাচের ব্যাচডে উদযাপন

Staff correspondent

নোবিপ্রবি উপাচার্যের যোগদানের বর্ষপূর্তিতে শিক্ষক সমিতির অভিনন্দন

Staff correspondent

করোনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মৃত্যু

Staff correspondent
bn Bengali
X