31 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, | সময় ৫:২০ অপরাহ্ণ

‘শেখ হাসিনা’ একটা বিশ্বাস, আস্থা আর অসাধারণ প্রতিভার নাম

প্রদীপ কুমার দেবনাথ:

 
শেখ হাসিনা। পৃথিবীর মধ্যে অনন্য ও প্রতিভাবান এক রাজনৈতিক নেতার নাম। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা এক সাহসী, দূরদর্শী অসাধারণ রাজনৈতিক প্রতিভা ও বাঙালির স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রদূত। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব,  সাহসিকতা আর মানবিক রাষ্ট্রদর্শন বাংলাদেশকে তার নিজ সীমা পেরিয়ে সারা পৃথিবীতে করেছে সুপরিচিত। শেখ হাসিনার  গতিশীল ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে আখ্যায়িত। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার রাজনৈতিক দর্শনে তিনি মানবিকতা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষা, বৈশ্বিক সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ রাজনৈতিক কৌশল তাকে সফলতা দিয়েছে, মহৎ করেছে। এতে সহনশীল সমাজ ও সৃজনশীল রাজনীতির বীজ রোপিত হয়েছে।বঙ্গবন্ধুর পরিপূর্ণ ছায়া, কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কৌশল আজকের শেখ হাসিনার মাঝে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আজকে তা বাস্তবায়নের পথে।  একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা-সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত একটা আদর্শ দেশ গঠনে। শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। একমাত্র শেখ হাসিনার সুশৃঙ্খল দেশ পরিচালনা আর সুশাসন পৃথিবীতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে মিরাকল উন্নতির দেশে পরিণত করেছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনৈতিক মিরাকলটি শুরু একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প দিয়ে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। দিন বদলের শ্লোগান নিয়ে এই প্রকল্পটি গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালী বুনিয়াদ তৈরি করেছে এবং এই ধারা বাহিকতায় দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের কর্মসংস্থান এসব বৃদ্ধি পেয়েছে। শেখ হাসিনার একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প। বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন গুচ্ছ গ্রাম। প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব কাঁধে নেন। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা গ্রহণ করেন আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ঠাঁই পাওয়া লোকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋন প্রদান ও স্বাবলম্বী করার সবকিছু তিনি করেছিলেন।  আধুনিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি হাতে নেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প ‘রূপকল্প : ২০২১’ বাস্তবায়নের প্রধান সহায়ক শক্তি। শেখ হাসিনার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধন করেছে। এই করোনা মহামারীতে এই প্রকল্পের সুফল সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে মানুষ। শিক্ষা, চিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সেবা পেয়েছে এবং পাচ্ছে মানুষ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোগান্তিহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজকাল ঘরে বসেই অনলাইনে সব কাজ করছে বাংলাদেশ । শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের সদর্থক প্রভাব আজ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করা এবং সব স্তরে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা শেখ হাসিনা উদ্ভাবিত শিক্ষা-সহায়তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচির মাধ্যম সনদধারী তথাকথিত শিক্ষিত নয়, বঙ্গবন্ধুকল্পিত আলোকিত মানুষ গড়ার কথা ভেবেছেন শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের সব শিশুকে স্কুলে আনয়ন, মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ, মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সহায়তা বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ এবং আইটিনির্ভর, শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ শ্রেণিকক্ষগুলোয় মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।শেখ হাসিনার একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দর্শন নারীকে ক্ষমতার মূল স্রোতে নিয়ে আসা। নারীর প্রত্যাশিত ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা পালন করে চলেছেন অনন্য ভূমিকা। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা। এ উদ্দেশ্যে তিনি প্রণয়ন করেছেন ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১।’ জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের আর্থসামাজিক ও মানব উন্নয়নে অন্যতম চালকশক্তি বিদ্যুৎ। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনা ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার দূরদর্শী ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই দেশের সর্বত্র এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন। প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, উইন্ডমিল ও বায়োগ্যাস থেকে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তার সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পরমাণু বিদ্যুতের জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্প।’ দেশের সব মানুষের জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। শেখ হাসিনার অনন্য এক মানবিক প্রকল্প ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।’ বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের স্বাস্থ্য-পুষ্টি শিক্ষা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণ- এসবই শেখ হাসিনার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমিহীন ছিন্নমূল মানুষরাও এই কর্মসূচি থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন।ক্ষমতায় এসেই শেখ সিনা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, মহাসড়কগুলো চার লেনে বিস্তৃতকরণ, সেতু-কালভার্ট-ফ্লাইওভার নির্মাণ, অনেক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল সৃষ্টি- এসব উদ্যোগের কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছেন। সমুদ্রবন্দরগুলো উন্নত ও আধুনিক করা হয়েছে, পদ্মা সেতুর কাজ শেষপর্যায়ে, গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে চলেছে কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের কাজ। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় শেখ হাসিনার ভূমিকা সারাবিশ্বে অবিশ্বাস্য প্রশংসা অর্জন করেছে। এজন্য তিনি অর্জন করেছেন জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ পুরস্কার’। শেখ হাসিনার ‘পরিবেশ সুরক্ষা’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, গবেষণা ও উদ্ভিজ্জ জরিপ এবং বনজসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে মানববান্ধব পরিবেশ ও বনাঞ্চল নিশ্চিতকরণ। এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে বনজসম্পদ উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বনভূমির পরিমাণ সম্প্রসারণ।
বৈশ্বিক পর্যায়েও শেখ হাসিনা তার অনন্য মেধা এবং প্রাতিস্বিক রাষ্ট্রদর্শনের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। যে কোনো বৈশ্বিক সভায় তার প্রস্তাব, অভিমত, চিন্তাধারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। গৃহীত হচ্ছে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তার প্রস্তাব।জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অতিসম্প্রতি এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশ্বসভার সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) এই পুরস্কার প্রদান করে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা, মানব উন্নয়ন এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কার তার বৈশ্বিক উদ্যোগেরই অনন্য স্বীকৃতি। কোভিড-১৯ দুর্যোগ থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণ নিশ্চিত করে ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি অর্জনের জন্য শেখ হাসিনা বৈশ্বিক পথরেখার যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, বিশ্বের রাষ্ট্রনায়করা তা সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বের ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক প্রতিভাধর কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আজ তাঁর শেখানো পথেই হাঁটছেন। পিতার দর্শনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বনেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে এবং বাংলাদেশের মানুষের নির্ভরযোগ্য আশা-আকাংখার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। রাজনৈতিক অসাধারণ কৌশল, মানবিকতা ইত্যাদি মহাগুণে আজ পা দিয়েছেন ৭৫ এ। দেশবাসীর সাথে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমারও আশা মহান সৃষ্টিকর্তা উনাকে আরও বহুবছর এদেশকে সেবা দানের সুযোগ দিন। বাঁচুক মানুষ, উন্নত হউক দেশ। 

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, (শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী)

আরও পড়ুন...

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য বাংলাদেশ

Al Mamun Sun

যেভাবে আসল গুড় চিনবেন

Staff correspondent

পেনশনের অর্থ পেতে শতবর্ষী মাকে টেনে ব্যাংকে হাজির মেয়ে!

Staff correspondent
bn Bengali
X