30 C
Dhaka
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, | সময় ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

চাঁদপুর জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুরু শ্রদ্ধেয় এম এ ইউসুফ স্যার

শাহাদাত আনোয়ার মতলব চাঁদপুর প্রতিনিধি :
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নাধীন বোরোচর গ্রামে মরহুম লাল মিয়া সরকারের সংসারে ২রা আগষ্ট ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন শিশু এম এ ইউসুফ স্যার। শিশু এম এ ইউসুফ স্যারের আড়াই বছর বয়সে বোরোচর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বাড়ি করেন তার পরিবার বর্তমান আবাসস্থল ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নাধীন রামদাশপুর গ্রামে। পিতার সংসারে পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই এম এ ইউসুফ স্যার ছিলেন সকলের মধ্যমণী। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের প্রফেসর প্রখ্যাত লেখক প্রয়াত হাফেজ হাবিবুর রহমান (MNA-মেম্বার অফ ন্যাশনাল এসেম্বলি) তার ভাতিজা এম এ ইউসুফ স্যারকে দিয়েছেন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। ধীরে ধীরে মেধার প্রসার ও লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠে কিশোর এম এ ইউসুফ স্যার। ১৯৫৯ সালে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান SSC) পাশ করেন জননন্দিত শ্রদ্ধেয় এম এ ইউসুফ স্যার। ১৯৬২ সালে সিলেটের সরকারী মুরারী চাঁদ কলেজ (বর্তমান সরকারী এম সি কলেজ) থেকে আইএ সম্পন্ন করেন লাখো হৃদয়ের প্রিয় শিক্ষাগুরু মোঃ আবু ইউসুফ স্যার। ১৯৬৪ সালে সরকারী মুরারী চাঁদ কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন প্রিয় শিক্ষাগুরু। ১৯৬৪ সালের আগষ্টে এম এ ইউসুফ স্যারের প্রিয় শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী প্রয়াত বদিউর রহমান পাটোয়ারীর অনুরোধে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন শিক্ষকতার মহান পেশায়। শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৬৮ সালে কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন স্পষ্টভাষী মোঃ আবু ইউসুফ স্যার। ১৯৬৯ সালে চাঁদপুরের পুরান বাজারস্থ নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন শ্রদ্ধেয় এম এ ইউসুফ স্যার। গুণাবলী সম্পন্ন ব্যাক্তিত্বের এম এ ইউসুফ স্যার ১৯৭২ সালে নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। মোঃ আবু ইউসুফ স্যারের সততা, শিক্ষার কৌশল, ও পরিচালনায় ছিলেন দারুণ পারদর্শী তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সকলের কাছে। ১৯৭৭ সালে ১৬ই জানুয়ারী হাজারো মানুষের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। তখন বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ছিল সবমিলিয়ে প্রায় ২৭০ জন, সে সময় বিদ্যালয়ের পশ্চিমাংশে দুইটি টিনের ঘর, উত্তর পার্শে দক্ষিণমুখী একতলা একটি বিল্ডিং, পূর্বদিকে রাস্তা সংলগ্ন টিনের চৌচালা অফিস ঘর, উত্তর পূর্ব কোণায় দোচালা টিনের ঘর ছিল মেয়েদের কমন রুম এবং মাঠের অর্ধাংশ ছিল গর্ত। ধীরে ধীরে তৎকালীন সময়ে শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবক প্রততিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সহযোগিতায় প্রাণের প্রাঙ্গন অবকাঠামোগত ভাবে পরিবর্তন হয়ে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপ দান করেন। অজস্র ভালোবাসায় সিক্ত মোঃ আবু ইউসুফ স্যার ২০০০ সালে চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে বুকভরা যন্ত্রনা নিয়ে নিজের হাতে সাজানো প্রাঙ্গন ছেড়ে ২০০০ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার পিংড়ায় অবস্থিত হজরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। ২০০২ সালে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন প্রধান শিক্ষকের পদে। ২০০৩ সালে হজ্ব পালন করেন ধর্মভীরু প্রিয় ব্যাক্তিত্ব এম এ ইউসুফ স্যার। ২০০৪ সালে মহান শিক্ষাগুরু অবসর নেন তার কর্ম জীবন শিক্ষকতা থেকে। সংসার জীবনে পাঁচ পুত্র সন্তান ও তিন কন্যা সন্তানের জনক ২০১৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর চীরতরে হারিয়েছেন তার সহধর্মিনীকে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরুর প্রিয় ব্যাক্তিত্ব তার বাবা-মা, প্রয়াত শিক্ষানুরাগী বদিউর রহমান পাটোয়ারী ও উইং কমান্ডার বদিউর রহমান এবং প্রিয় বন্ধু জননন্দিত গুণী ব্যাক্তিত্ব আবুল হোসেন খন্দকার। মোঃ আবু ইউসুফ স্যার অবসরে সামাজিক সেবামূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকেন এবং ইসলামিক বই পড়েন। শ্রদ্ধেয় স্যারের স্বপ্ন ছিল একটি মসজিদ নির্মাণ করা, সার্বজনীন সহযোগিতায় স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে স্যারের। আজ ও আগামী বেঁচে রবে শ্রদ্ধেয় স্যার অন্তরে অন্তরে তার শিক্ষা, মেধা, শাষন ও পরিচালনার কারনে। তিনি সিখিয়েছেন, “আপনারা লয়ে বিব্রত রহিতে, আসেনি কেহ অবনী পরে”। স্যালুট প্রিয় শিক্ষাগুরু মোঃ আবু ইউসুফ স্যারকে।

আরও পড়ুন...

লোহাগাড়ায় ৪৮ জনের করোনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের নেগেটিভ : ১১ জনের রিপোর্ট এখনো আসেনি

Staff correspondent

সুন্দরবন কে ঘিরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিমূলের দ্রুতগতি সম্পর্ণ তিনটি জলযান বিতরন করেছেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি

Staff correspondent

কলাপাড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্রলার মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ভ্রাম্যমান আদালতের ॥

Staff correspondent
bn Bengali
X