28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, | সময় ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির দর্শণীয় স্থানগুলো

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি জেলা। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত দেশের বৈচিত্রময় জনপদ। পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা নির্মল প্রকৃতি। পর্যটকের মনে হবে, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এটিকে গড়ে তোলেছে। এ জেলার সর্বত্রই দর্শনীয় স্থান, যেদিকে তাকাবেন আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন, পর্যটকরা খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে ভিড় করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলির অন্যতম হলো- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলার ঝর্ণা বা রিছাং ঝর্ণা, আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, দেবতার পুকুর (দেবতার লেক), শান্তিপুর অরণ্য কুটির, বিজিবি সাবেক বিডিআর  স্মৃতিসৌধ

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র :

ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটক স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি যাওয়ার সময়ই আপনার চোখে পড়বে পর্যটন কেন্দ্রটি। পর্যটন কেন্দ্রটির সামনে দাড়ালেই আপনি ভিতরে প্রবেশের লোভ সামলাতে পারবেন না। পর্যটন কেন্দ্র থেকে দূরে তাকালেই দেখতে পাবেন খাগড়াছড়ি শহর, আকাশ আর পাহাড়ের সৌন্দর্য। এর সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক জেলা প্রশাসক লিখেছিলেন যা অনেকটা এ রকম-‘‘ক্লান্ত পথিক ক্ষণেক বসিও আলুটিলার বটমূলে, নয়ন ভরিয়া দেখিও মোরে চেঙ্গী নদীর কোলে।’’

পর্যটন কেন্দ্রটিতে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গুহায় যাওয়ার সিড়ি, বসার সুব্যবস্থা ও বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। আপনি যখন

পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠবেন খাগড়াছড়িকে দেখে দার্জিলিংয়ের কথা মনে পড়ে যাবে, মনে হতে পারে আপনি দার্জিলিং দেখছেন। বছরের প্রত্যেকটা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় পর্যটন কেন্দ্রটিতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছু্টে যান সেখানে।

কিভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ি সদর থেকে বাস, অটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেলেও সল্প সময়ের মধ্যেই যাওয়া যায়।

রিছাং ঝর্ণা :

ঝর্ণার জলরাশি উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে। জলধারা নীচে নেমে যাচ্ছে উচু পাহাড় গড়িয়ে। ঝর্ণার কাছে দাড়ালেই দেহ মন ভরে উঠবে পবিত্র স্নিগদ্ধতায়। সেখানে যাওয়ার আগে ঝর্ণার সৌন্দর্য সম্পর্কে যতটুকু কল্পনা করে থাকবেন তার চেয়েও অনেক সুন্দর জায়গা। ছর্ণা পর্যন্ত যাতায়াতের উচুনিচু রাস্তা আর পাশের তাকালেই দেখতে পাবেন পাহাড় আপনাকে এনে দিবে রোমাঞ্চকর অনুভুতি। মারমা ভাষায় ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ’ছাং’ শব্দের অর্থ ঝর্ণা। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণা দেখতে প্রতিদিনেই পর্যটকরা ভিড় করেন।

যেভাবে যাবেন- রাঙ্গামাটি শহর থেকে আলুটিলা থেকে সামান্য দূরত্বেই ঝর্ণাটির অবস্থান। যাতায়াতের জন্য রয়েছে চান্দের গাড়ি, কার এবং মোটরসাইকেল।

আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ :

Image result for আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ

পর্যটন কেন্দ্রটির প্রধান আকর্ষণই গুহা। আলুটিলা সুড়ঙ্গটি দেখতে হলে পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিড়ি বেয়ে নামতে হবে পাহাড়ের পাদদেশে। সুড়ঙ্গটি পাথর আর শিলা মাটির ভাঁজে গড়া। প্রায় ১৮ ফুট ব্যাসের গুহামুখ আর গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ ফুট। সুড়েঙ্গের ভিতরে গা ছমছম অন্ধকার, গুহার তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে চলেছে জল। গুহায় প্রবেশ করার জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে মশাল কিনে নিতে পারেন  গুহার কাছে থেকেই। গুহার একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হতে সময় লাগবে প্রায় ১০/১৫ মিনিট।

যেভাবে যাবেন- পর্যটনকেন্দ্রটি অবস্থান খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে ট্যাক্সিযোগ অথবা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়।

দেবতার পুকুর (দেবতার লেক) :

Debota Pukur Khagrachari

ত্রিপুরাদের ধারণা, স্থানীয় ব্যক্তিদের আশীর্বাদস্বরূপ দেবতা নিজে এ পুকুর( Debota Pukur Khagrachari )করে দিয়েছেন। তাদের মতে, এ পুকুরে গোসল করলে মনোবাসনা পূরণ হবে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের ওপর এই পুকুরের অবস্থান। প্রতিবছর বৈসুকে এখানে তীর্থ মেলা বসে। খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি-রাঙামাটি সড়কের সাত কিলোমিটার গেলে মাইচছড়ি। এই মাইচছড়ি থেকে চার কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে নুনছড়ি গ্রাম। এই নুনছড়ি গ্রাম থেকে এক কিলোমিটারের পাহাড়ি পথ বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই দেবতা পুকুর। এ পুকুরের স্বচ্ছ স্থির জলরাশি পর্যটকদের মনে প্রশান্তি জোগাবে।

প্রাকৃতিক এই দৃশ্য ছাড়াও এ অঞ্চলের আদিবাসীদের, বিশেষত, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি জানতে আপনি পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর অরণ্য কুটির, দীঘিনালা বন বিহার, খাগড়াছড়ি শহরের কেন্দ্রস্থলে শতবর্ষের পুরোনো য়ংড বৌদ্ধমন্দিরে ঘুরে আসতে পারেন।

খাগড়াছড়ি জেলার মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজায় অবস্থিত সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ৭০০ ফুট উপরে ৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত হ্রদটিই আসলে দেবতার পুকুর নামে পরিচিত। কথিত আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জল তৃঞ্চা নিবারণের জন্য স্বয়ং জল-দেবতা এ পুকুর খনন করেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আশীর্বাদ বলে মনে করে। দেবতার অলৌকিকতায় পুকুরটি সৃষ্ট বলে এতো উঁচুতে অবস্থানের পরও পুকুরের জল কখনও শুকোয় না।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে মাত্র ০৫ কি:মি: দক্ষিণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে অবস্থিত মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। মূল রাস্তায় বাস থেকে নেমে কিলো দুয়েক পায়ে হাঁটা পথ। নিজস্ব পরিবহন থাকলে তা নিয়ে আপনি সোজা চলে যেতে পারেন একেবারে পাদদেশে নদীর কাছে। হাঁটতে হাঁটতে উঁচু পাহাড় যখন পাড়ি দেবেন তখন নিজেকে অনেকটা দিগ্বিজয়ীর মতো মনে হতে পারে আপনার।

ক্লান্ত হলে পাহাড়ের কোলে খানিকটা জিরিয়ে নিতে পারেন। যাওয়ার পথেই দেখা যাবে নুনছড়ি নদীর ক্ষীণ স্রোতের মাঝে প্রকান্ড পাথর। স্বচ্ছ জলস্রোতে স্থির পাথর আপনাকে মোহিত করবেই। প্রকৃতির অপূর্ব সাজে মুগ্ধতায় শিহরিত হবে আপনার মন। ছবি প্রেমিক পর্যটকরা এখানে ছবি তোলেন অনেকেই। সমুদ্র সমতল হতে ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় দেবতার পুকুর রূপকথার দেবতার আশীর্বাদের মতো সলিল বারির স্রোতহীন সঞ্চার। বাংলাদেশের আর কোথাও এত উঁচুতে এমন সলিল সঞ্চিত বারির আধার আর নেই।

পুকুরের চতুর্দিকে মালভুমি দ্বারা বেষ্টিত বলে পাড়ে দাঁড়িয়ে এর সঠিক উচ্চতা অনুভব করা যায় না। পাঁচ একর আয়তনের এ পুকুরটির স্বচ্ছ জলরাশির মনভোলা প্রশান্তি মুহূর্তের মাঝে পর্যটকদের হৃদয় মন উদাস করে দেয়।

পুকুরের চতুর্দিকে ঘন বন, যেন সৌন্দর্যের দেবতা বর নিয়ে দাঁড়িয়ে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নরনারী পূণ্য লাভের আশায় পুকুর পরিদর্শনে আসে। কিংবদন্তীর দেবতার পুকুরটি ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে পূজনীয়, খাগড়াছড়িবাসীর কাছে গৌরব এবং পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষনীয় প্রতীক।

কিভাবে যাবেনঃ
নুনছড়ি ত্রিপুরা পল্লীটি পর্যটন মোটেলের ১৩ কিলোমিটার দক্ষিনে এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মাইছড়ি সেনা ক্যাম্পের ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। চান্দের গাড়ি অথবা লোকাল বাসে করে মাইছরি সেনা ক্যাম্প পর্যন্ত পৌছাতে পারবেন। সেখান থেকে এই পুকুরে পৌছাতে আপনাকে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পায়ে হাঁটতে হবে। তবে সাথে ব্যাক্তিগত গাড়ি থাকলে আপনি ত্রিপুরা পল্লী পর্যন্ত যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেনঃ
রাত যাপন করার জন্য খাগড়াছড়ির প্রধান বাজারে রয়েছে হোটেল মাসুদ। এখানে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে রুম রয়েছে। আদালত রোডে চৌধুরী বোর্ডিং, খাগড়াছড়ি বাজারে সম্প্রীতি হোটেল এবং কোর্ট রোডে রয়েছে শিল্পী বোর্ডিং। হোটেল থ্রিস্টার নারায়ণ রোডে অবস্থিত। এছাড়া পর্যটনের মোটেলও রয়েছে।

 

 শান্তিপুর অরণ্য কুটির :

panchari-shantipur-aranya-kutir

পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, ট্রেইল; এই সব মিলিয়ে আমাদের পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ি জেলা। আর এই জেলার অন্যতম সৌন্দর্য-মন্ডিত একটি এলাকা পানছড়ি উপজেলা। পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুরে ১৯৯৯ সালে স্থাপন করা হয়েছিল শান্তিপুর অরণ্য কুটির। অনেক বড় এলাকা নিয়ে এই অরণ্যে আবৃত বলেই সম্ভবত এর নামকরণ করা হয়েছিল অরণ্য কুটির।

জনমুখে শোনা যায়, শান্তশিষ্ট ও কোলাহল মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ধ্যান সাধনার জন্য ভিক্ষুরা এই কুটিরটি ব্যবহার করে থাকেন। এই শান্তিপুর অরণ্য কুটির মূলত একটি বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তিটি রয়েছে এখানে। এই বৌদ্ধ মূর্তিটির উচ্চতা ৪২ ফুট। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক মূর্তিটি দেখতে আসেন এই কুটিরে। সবাই মনে করেন এটি একটি হিংসা-বিদ্বেষবিহীন মৈত্রীপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

বর্তমানে এটি তীর্থস্থানের পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। এই মন্দিরটিতে ২৫টিরও বেশী পর্ণ কুটির রয়েছে আর সেই সাথে উপ-কুটিরও রয়েছে। সবগুলো কুটির ও উপকুটিরে একজন করে ভিক্ষু ও শ্রামণ অবস্থান করেন এবং তারা ভাবনা ও ধ্যানে মগ্ন থাকেন। এখানে ভিক্ষু শ্রামণসহ মোট ৪০ জন অবস্থান করছেন।

শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলো হল সাড়ে ৪৮ ফুট উচ্চতার গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, লাভীশ্রেষ্ঠ সিবলী মহাস্থবিরের মন্দিরসহ মূর্তি, মারবিজয়ী উপগুপ্ত মহাস্থবিরের মূর্তি, অধ্যক্ষ মহোদয়ের আবাসস্থল “মৈত্রী ভবন”, ১০০ হাত দৈর্ঘ্যের ভিক্ষুশালা, ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের দেশনাঘর, ৮০ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ভোজনশালা এবং বড় বুদ্ধ মূর্তির ছাদ।

অরণ্য কুটিরের সব স্থাপনাগুলো বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তা, বিভিন্ন দাতা ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে। এই কুটিরে খালি জায়গায় চারা রোপণ করে বাগান তৈরি করা হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা হয়, তেমনি কুটিরের আয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করে।

এই পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রত্যেক বছর বৌদ্ধ ধর্মের শ্রেষ্ঠ দান কঠিন চীবর দান যথাযথভাবে উদযাপন করা হয় এবং এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নানান জায়গা থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি করে পানছড়ি যেতে হবে। তারপর পানছড়ি বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার রাস্তা দক্ষিণে গেলেই চোখে পড়বে প্রকৃতির বুকের এক অপরূপ শোভা শান্তিপুর অরণ্য কুটির।

বিজিবি সাবেক বিডিআর স্মৃতিসৌধ  :

post image

বাংলাদেশে দর্শনীয় স্থান বিবেচিত হতে পারে রামগড়ে অবস্থিত বিজিবি (সাবেক বিডিআর) স্মৃতিসৌধ। বর্তমান বিজিপির গোড়াপত্তন হয় রামগড়ে। বিজিপির ইতিহাস নিম্নরূপ:

রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন (১৭৯৫-১৮৬০): ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে সৃষ্টি হয় এ বাহিনী। যার সৈন্য সংখ্যা ছিলো মাত্র ৪৪৮ জন। সীমান্ত সমস্যা বৃদ্ধি পেলে এ বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘকালীন অভিযানে অংশ নেয়। ৬ পাউন্ড গোলার ৪টি কামান ও দু’টি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল নিয়ে গঠিত হয় সেদিনের রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন।

ফ্রন্টিয়ার গার্ডস (১৮৬১-১৮৯০): ১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত ও অনিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠিত হয়। যার নামকরণ করা হয় ফ্রন্টিয়ার গার্ডস। সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৫৮জন এবং সদর দপ্তর ছিলো চট্টগ্রামে। যার মধ্যে কামরূপ, গোয়ালপাড়া, লক্ষ্মীপুর, সিলেট ও ত্রিপুরার সীমান্ত ফাঁড়িগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৭৯ সালে স্পেশাল রিজার্ভ কোম্পানির নামে এ বাহিনীর তৎকালীন সদস্যগণকে নিয়ে পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। সে থেকে অদ্যাবধি পিলখানায় রাইফেলস সদস্যদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে।
বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ (১৮৯১-১৯১৯): ১৮৯১ সালে বাহিনীর নতুন নামরকণ করা হয় বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ। ব্যাটালিয়নকে ৪টি কোম্পানিতে ভাগ করা হয়। ঢাকা, খুলনা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে কোম্পানিগুলো স্থানান্তর করে একজন ইউরোপিয়ান সুবেদারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।

ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস্ (১৯২০-১৯৪৬): ১৯২০ সালে কালের বিবর্তনে বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশের পুনঃ নামরকণ করা হয় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস্ এবং একে ১৬টি প্লাটুনে বিভক্ত করে সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্ত রক্ষায় নিয়োজিত করা হয়।

ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ (১৯৪৭-১৯৭১): ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এ বাহিনীর নামরকণ করা হয় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ বা সংক্ষেপে ইপিআর। কোলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল কতিপয় বাঙ্গালি এবং তদানিন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের এক হাজার প্রাক্তন সৈনিক এ বাহিনীতে যোগ দেয়। পরবর্তীতে আরও তিন হাজার বাঙ্গালীকে নিয়োগ করে এ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করা হয়। দক্ষ নেতৃত্ব এবং দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এ বাহিনীকে প্রদান করা হয় চোরাচালান দমনের দায়িত্ব। দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ১৯৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১নম্বর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মেজর তোফায়েল আহম্মেদ জীবন উৎসর্গ করে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় খেতাব নিশান-ই-হায়দার অর্জন করেছিলেন। প্লাটুন কমান্ডার শহীদ নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আজম অর্জন করেছিলেন সিতারা-ই জরাত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এ বাহিনীর ১৪২জন সদস্য জাতীয় বীরত্বপূর্ণ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। যার মধ্যে মরণোত্তর বীর শ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন শহীদ ল্যান্সনায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ। বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৯জন, বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৪০জন এবং বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন ৯১জন।

বাংলাদেশ রাইফেলস্ বা বিডিআর (১৯৭২ সাল থেকে):  দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইপিআর এর নতুন নামকরণ করা হয় বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস্)। রামগড়ে বাংলাদেশ রাইফেলস্ এর জন্ম উপলক্ষে একটি মনোরম স্মৃতিফলক রয়েছে। যাতে বিডিআর এর ধারাবাহিক ইতিহাস দেয়াল চিত্রের মাধ্যমে বিধৃত করা হয়েছে। আর ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের পর বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ১ মার্চ এ-সংক্রান্ত খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০১০ সালের ১২ জুলাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-এর খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল-২০১০’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। গেজেট প্রকাশিত হয় ২৬ ডিসেম্বর।

কিভাবে যাওয়া যায়: বিজিপির জন্ম সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থানটি রামগড় উপজেলা পরিষদের পাশে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

হাতিমাথা পাহাড় :

খাড়া উঁচু পাহাড়। দেখতে ঠিক হাতির মাথার মতো। তাই শত শত বছর ধরে স্থানীয় আদিবাসীরা একে ডাকে হাতিমাথা বা হাতিমুড়া( Elephant Head Hill Khagrachari ) নামে। এখানকার পাহাড়ি উঁচু পথকে স্থানীয়রা হাতিমুড়া/মায়ুং কপাল বলে ডাকে। এখানেই রয়েছে স্বর্গের সিঁড়ি। না, সত্যিকার স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি নয়, তবে এই সিঁড়ি আপনাকে নিয়ে যাবে পাহাড়ের চূড়ায় অসাধারণ সুন্দর আদিবাসী গ্রামে। স্বর্গের সিঁড়িটি ভূমি থেকে উঠে গেছে সোজা উপরের দিকে। পাহাড়ের গায়ে সবুজ বনের ফাঁকে ফাঁকে খাড়া উঠে যাওয়া এই সিঁড়ির শেষ দেখা যায় না। মনে হয় যেন উপরে স্বর্গেই শেষ হয়েছে সিঁড়িটা। আর তাই একে স্বর্গের সিঁড়ি নামে ডাকা হয়।

খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলা সদরের পেরাছরা ইউনিয়নে এই স্বর্গের সিঁড়িটি অবস্থিত। চাকমা ভাষায় যার নাম ‘এদো সিরে মোন’। খাড়া পাহাড় ডিঙিয়ে যাওয়া দুর্গম এই পথটি মূলত ১৫ টি গ্রামের যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সদর উপজেলা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম ভাঙ্গামুড়া, বাদলছড়া, মাখন তৈসা পাড়া, কিনাপা পাড়া, হাজা পাড়া, বগড়া পাড়া, কেশব মহাজন পাড়া, সাধুপাড়া, কাপতলা পাড়ার মানুষের জীবন যাত্রাকে সহজ করার জন্য সরকারী উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার তৈরি এই সিঁড়ি।

আনুমানিক ১২০-১১০ ডিগ্রি এঙ্গেলের খাড়া প্রায় ৩০০ সিঁড়ি বেয়ে হাতিমাথা পাহাড়ের উঠতে হয়। হিমশীতল এই সিঁড়ি বেয়ে যখন পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে থাকবেন তখন নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। বনের মাঝে এঁকেবেঁকে যাওয়া এই সিঁড়িটি দেখতে ভয়ংকর লাগলেও আসলে তেমনটা নয়। একটু সাবধানতা বজায় রেখে উঠলেই হবে। এই আঁকাবাঁকা সিঁড়ি দিয়ে পাহাড়ি পথে চলার সময় মনে হবে যেন স্বর্গের সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে মর্ত্যলোকে। একটু ভিন্ন আমেজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পেতে তাই আপনাকে ঘুরে আসতে হবে এই স্বর্গের সিঁড়ি থেকে।

কিভাবে যাবেনঃ

মায়ুং কপাল / হাতিমুড়া যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যাওয়ার পথে জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনিরসামনে নামতে হবে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে জামতলী পর্যন্ত গাড়ী ভাড়া জন প্রতি ১৫ টাকা। এরপর জামতলীস্থযাত্রী ছাউনির বামদিকের রাস্তা ধরে সোজা গিয়ে চেঙ্গী নদী পার হয়ে ডান দিকে স্কুলের রাস্তার দিকে যেতে হবে।স্কুলের নাম পল্টনজয় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়। ওখানে গিয়ে একটি দোকান পাবেন। দোকানের সামনে দিয়ে ডানের রাস্তাধরে যেতে হবে।

দুটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হবে। এরপর ডানদিকে ছড়ার পাশ দিয়ে যে ছোট্ট রাস্তা গেছে, সেটিদিয়ে আরেকটি বাঁশগাছের সাঁকো পার হয়ে এবার সোজা পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে বগড়া পাড়া নামেএকটি পাড়া পড়বে। এরপর সামনে এগুলে বিস্তৃত ছড়া পড়বে। এরপর একটি বড় টিলা পার হতে হবে। এটি পারহলে একটি লোকালয় পাওয়া যাবে, যে এলাকার নাম কাপতলা। এরপর হাতের ডান দিকে নিচু পথ ধরে এগিয়েযেতে হবে, যেতে যেতে সামনে দুইটি রাস্তা পাওয়া যাবে এবং ডান দিকের রাস্তা ধরে এগুতে হবে। এরপর দেখামিলবে অসাধারণ মায়ুং কপাল/হাতি মুড়া (Hatimura)। সব মিলিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক।

ট্রেকিং মোটামুটি কষ্টের কারন ছোট খাটো পাহাড় পাড়ি দিতে হবে। সাথে করে অবশ্যই পানি এবং শুকনা খাবারনিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন...

সুপ্রিম কোর্টসহ সব আদালতে ছুটি বাড়লো

Staff correspondent

ভুটান ভ্রমণে নতুন আইন, দিনপ্রতি ফি ১৪০০ টাকা

Staff correspondent

জুমআ’র নামাজে হেঁটে উপস্থিত হওয়া অনেক উত্তম

Staff correspondent
bn Bengali
X