30 C
Dhaka
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, | সময় ৫:৪১ অপরাহ্ণ

পুলিশকে জনগণের বন্ধু হয়ে ওঠতে হবে

রুদ্র অয়ন এর কলাম 

জনগণের ভালোবাসা অর্জনের জন্য পুলিশকে ক্ষমতার অপব্যবহার, দাম্ভিকতা, দমন-পীড়ন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সম্প্রতি করোনা কালে পুলিশদের থেকে জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে, পুলিশ করোনা যোদ্ধা! হ্যাঁ গুটি কয়েক ভাল কাজ করছে বটে তবে অধিকাংশ জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে এই পুলিশ। জায়গা জায়গা ডিউটির নামে তাদের উল্টো পাল্টা কর্মকান্ড চলছে । জায়গা জায়গা মেইন রাস্তা আটকিয়ে বসে থাকে পুলিশ। প্রাইভেট কার, বাইক অবাধে চলাফেরা করে আর রিক্সা/অটো চলাচলে বাঁধা দেয়! বলে রাস্তা ঘুরে সরু রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, আর সরু রাস্তায় সেই জ্যাম লেগে যায়। গ্যাদারিংয়ে ঠেলে পুলিশ কি করোনা মুক্ত করতে চান? একদিন দেখলাম রিক্সা আরোহী  বৃদ্ধ লোক বাজার থেকে ফিরছেন। পুলিশ দিলো আটকে! বৃদ্ধ লোককে দাম্ভিকতা দেখিয়ে বললেন, পায়ে হেটে যান। বৃদ্ধ লোক অনুনয় বিনয় করে বললেন, আমি হার্টের রুগী বাজার হাতে হেটে যাওয়া সম্ভব নয়। ডিউটিরত পুলিশ কিছুতেই শুনলেননা! উল্টে রিকশা ওয়ালাকে দিলেন একঘা বসিয়ে! আচ্ছা, এটা কি করোনা আটকাতে এমন করছে নাকি বৃদ্ধ লোকটি অসুস্থ হয়ে যাক এটাই তার উদ্দেশ্য? উপায়ন্তর না দেখে বৃদ্ধ লোকটি হাঁপাতে হাঁপাতে বাজার ভর্তি ব্যাগ নিয়ে হাটা শুরু করলেন! বিশেষ প্রয়োজনে সেদিন বাইক নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম। অবস্থা বেগতিক দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি সেদিন বাইকে বৃদ্ধ লোকটিকে তার গন্তব্যে পৌছিয়ে দিয়েছিলাম।

এই ধরনের ডিউটি আর এমন আচরণ করোনা যোদ্ধার হতে-ই পারেনা। বরং এসব অবুঝ পুলিশগণকে মানুষকে হয়রানি আর অসুস্থ করে ছাড়ছে।

দাম্ভিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার নয় জনগণের পুলিশ হতে হলে জনগণকে ভালবাসতে হবে। জনগণের সুবিধা অসুবিধা বুঝতে হবে। জনগণের জন্যে কাজ করতে হবে, জনতার পাশে দাঁড়াতে হবে। দমন-পীড়ন থেকে বেরিয়ে এসে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে সকল ধরনের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না, মাদকমুক্ত পুলিশ তথা মাদক-নেশামুক্ত দেশ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশকে জনবান্ধব, আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে ইনোভেশন অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিস শাখা আয়োজিত পুলিশ সদর দফতরে অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত গ্রহণ বিষয়ক পাঁচ দিনের কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, সবার মতামত নিয়ে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পুলিশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যাতে জনগণ পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই ভালবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা জানায়। যাতে জনগণের হৃদয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী আসন করে নিতে পারে বাংলাদেশ পুলিশ।

কথা হচ্ছে পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে এটা যেন আইজিপি সাহেব প্রত্যেক পুলিশের মাথায় ঠিকঠাক  ঢুকিয়ে দেন এব্যাপারে সবিনয় অনুরোধ রইল।
বর্তমান করোনাকালে পুলিশের কিছু কিছু কাজ প্রশংসানীয়। কিছু কিছু জায়গায় অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন পুলিশ তাদের জানাজার আয়োজন, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। এসব কাজ পুলিশ নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশ সেবায় পুলিশের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করেছিল। ৫০ বছর পর করোনা আবার জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার একটা সুযোগ নিয়ে এসেছে।

পুলিশকে জনতার পাশে দাঁড়াতে  হবে, সাধারণ জনগণের বন্ধু হয়ে ওঠতে হবে তবেই জনগণের হৃদয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী আসন করে নিতে পারে বাংলাদেশ পুলিশ।

আরও পড়ুন...

নীতি থেকে বিচ্যুত জীবন কখনো নৈতিকতা সম্পন্ন জীবন হতে পারে না——-মোহাম্মদ হাসান 

Staff correspondent

সাহায্যের জন্য মানবিক আবেদন

Staff correspondent

ইব্রাহীম খলিল এর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করলো আনন্দ সংবাদ ডট কম

Staff correspondent
bn Bengali
X