29 C
Dhaka
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, | সময় ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ ও দেখামাত্র হত্যার নির্দেশ ছিল: মিয়ানমার সেনার স্বীকারোক্তি

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতন, ধর্ষণ, গণকবর দেওয়া, গ্রাম ধ্বংস করা, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা জানিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের দুই সৈনিক। তারা জানায়, রোহিঙ্গাদের দেখামাত্র গুলি করে হত্যার নির্দেশ ছিল তাদের উপর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় মিয়ানমারের দুজন সৈনিক একথা বলে। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটস।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সৈনিক হেলেন– মাইও উইন তুন (৩৩) এবং জ নায়েং তুন (৩০)।

মাইও উইন তুন সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কমান্ডিং অফিসারের কাছ থেকে পরিষ্কার নির্দেশ ছিল, ‘আপনি যাকে সামনে দেখবেন তাকেই গুলি করবেন।’

এই সৈনিক আরো বলেন, ‘তিনি শুধু নির্দেশ পালন করছেন। ৩০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেই সব রোহিঙ্গাদের সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি গণকবরে দাফন করেছিলেন।’

মিয়ানমারের অপর সৈনিক জ নায়েং তুন আদালতে স্বীকারোক্তিতে বলেন, আরেকটি ব্যাটালিয়নে থেকে তিনি ও তার সহকর্মীরা একই রকম নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন। তাদের বলা হয়েছিলো, ‘শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক যাদেরই পাবেন তাদের হত্যা করবেন।’

এই সৈনিক বলেন, ‘সে সময় আমরা প্রায় ২০টি গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছি। আর মৃতদেহগুলো মংদু টাউনশিপে একটি গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়।’

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সামনে প্রকাশ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যার কথা স্বীকার করে মিয়ানমারের এই দুই সেনা সাক্ষ্য দিলেন।

সোমবার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই দুই সৈনিককে হেগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই দুজনের স্বীকারোক্তির ফলে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে। মিয়ানমার সেনার নির্যাতনের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এসব রোহিঙ্গারা।

মানবাধিকার সংস্থা ফরটিফাই রাইটসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘মিয়ানমারের বিচারের জন্য এই স্বীকারোক্তি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। এই ব্যক্তিরা মিয়ানমারের প্রথম অপরাধী ও রাজসাক্ষী হতে পারে।’

আরও পড়ুন...

‘বাহুবলী’ রূপে আবির্ভূত হলেন ট্রাম্প (ভিডিও)

Staff correspondent

ফ্রান্সের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

Staff correspondent

বরিস জনসনকে পরকীয়ার দায়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন স্ত্রী

Staff correspondent
bn Bengali
X