28 C
Dhaka
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, | সময় ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ

চুনারুঘাটে ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি প্রার্থী দুলাল রাজাকার পুত্র বলে দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আজিজুর রহমান দুলাল রাজাকার পুত্র বলে দাবি করছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাই তাকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত না করতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।


গত ৯ সেপ্টেম্বর চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কে.এম আনোয়ার হোসেন বরাবরে দায়ের করা অভিযোগে স্বাক্ষর করেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা নমীর খান, রহিম খান (অব. সেনা সদস্য) আব্দুল সামাদ (অব. সেনা সদস্য) ও সাবেক কমান্ডার হাজী আব্দুল রহমান আজাদ। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে নমীর খান অভিযোগ পত্রটি উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক খোকন চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।


লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন- সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আজিজুর রহমান দুলাল। অথচ তার বাবা মৃত আব্দুল খালেক এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। এমনকি তার নানা আব্দুল রেজ্জাক রাজাকারদের সভাপতি ছিলেন। তার দুই মামা আব্দুস সহিদ ও নুরুল হকও রাজাকার। এমনকি রাজাকারের তালিকায় রয়েছেন তার খালু আব্দুর নুর সর্দার। এমন একটি রাজাকার পরিবারের সন্তানকে যুবলীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে লজ্জায় ফেলেছে। তাই তাকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত না করতে নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।


এ ব্যাপারে আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আলা উদ্দিন বলেন, ‘কোন রাজাকার পরিবারের সদস্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ভাইটাল পোষ্টে থাকতে পারে না।’


এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, নির্দিষ্ট ইউনিয়ন ওয়ারী যাচাই-বাচাই কমিটি রয়েছে। তারা আমাদেরকে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করবেন। এর ভিত্তিতে জেলা ও উপজেলা কমিটি সঠিক সিদ্ধান্ত দিবে।’


এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর বলেন, ‘শুনেছি তার বাবা রাজাকার ছিলেন। তবে সে যে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আমুরোড বড়বাড়ির রেজ্জাক মেম্বারের নাতি সেটা এখন জানলাম। বর্তমানে যুবলীগ হবিগঞ্জের একটি সুসংগঠিত আওয়ামী পরিবার। সেখানে কোন রাজাকার আলবদর পরিবারের সদস্য থাকতে পারবে না।’


বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত আজিজুর রহমান দুলাল বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে এখন যুবলীরে সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু এখন হঠাৎ করে আমার মরহুম বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনে আমি হতভম্ব।’তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবা-দাদা কোন সময় রাজাকার ছিলেন না। রাজনীতির জন্য মুক্তিযোদ্ধারা আমার মরহুম বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন, আমি ভাবতেই পারছি না। আমি রাজাকারের তালিকা সংগ্রহণ করে দেখব আমার বাবা-দাদা রাজাকার ছিলেন কি-না। যদি তাদের অভিযোগ মিথ্যা হয় তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহাণী মামলা করব।’

আরও পড়ুন...

পিতা দুই সন্তানসহ পলাশবাড়ীতে ট্রাক উল্টে নিহত ১৩ জনের মিললো পরিচয়

Staff correspondent

ঢাকাস্থ চরফ্যাশন মনপুরা জাতীয়তাবাদী ফোরামের কমিটি গঠন

Staff correspondent

নবীগঞ্জে প্রশাসন-সেনা যৌথ অভিযান : ৬৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

Staff correspondent
bn Bengali
X