30 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, | সময় ৫:৪১ অপরাহ্ণ

যুদ্ধকালীন সময়ে সুন্দরবনের ডাকাত দেলোয়ার এখন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

যুদ্ধকালীন সময়ে বাগেরহাটে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মোংলার বুড়িরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্ধা মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে। তবে তিনি এখন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার সত্যতাও মিলেছে। এরপরও তিনি পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা । মুক্তিযোদ্ধার কোটায় এক সন্তানকে পুলিশে চাকুরীও দিয়েছেন তিনি। মুক্তি যুদ্ধের কয়েক যুগ অতিবাহিত হলেও মুক্তিযোদ্ধা সেজে থাকা ডাকাত দেলোয়ারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম ক্ষুব্ধ বাগেরহাট জেলার মুক্তিযোদ্ধারা।
মোংলার বুড়িরডাঙ্গার বাসিন্ধা সুদীপ সরকার,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর গত বছরের ৩০ অক্টোবর প্রেরিত একটি অভিযোগে সুত্রে জানাযায়, যুদ্ধকালীন সময়ে সুন্দরবনে অবস্থান করে বাগেরহাটের রাধাবল্লবসহ আশপাশের এলাকার ডাকাতি করতেন মোংলায় মুক্তিযোদ্ধা সেজে থাকা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কতৃক প্রকাশিত মুক্তিভাতা তালিকায় বাগেরহাট জেলায় কোথায়ও দেলোয়ার হোসেন এর নাম অন্তভুক্ত নাই। অথচ নিজ জন্মস্থান গোপন করে ভুয়া কাগজ পত্র তৈরী করে নানা কুট কৌশলে মোংলায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তভুক্ত করেন দেলোয়ার হোসেন। এর পর অর্থ ও কাইক শক্তি ব্যবহার করে দালাল চক্রের মাধ্যমে বে-আইনী ভাবে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে তার নাম অন্তভুক্ত করান। যার গেজেট নম্বর-২৭৮৪।
এর পর ওই লিখিত অভিযোগের তদন্ত করে জানানোর জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরন করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মোংলা উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভুমি) নয়ন কুমার রাজবংশী বিষয়টি তদন্ত করেন । এর পর ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ একটি শুনানী করেন। শুনানী কালে ৩২ জন সাক্ষি ও ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় শতাধিত ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত ও শুনানী শেষে চলতি বছরের ১১ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান সহকারী কমিশনার নয়ন কুমার রাজবংশী। জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন,মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়াম্যোন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিখিল চন্দ্র রায় ও বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমানসহ উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধারা জনাব দেলোয়ার হোসেন কে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্বীকার করেন।
মুুিক্তযোদ্ধা সেজে সরকারী সুযোগ সুবিধা আদায় আর সন্তানকে পুলিশে চাকুরী দেয়ার বিষয়ে দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাগেরহাটের রাধাবল্লব এলাকার বাসিন্ধা তিনি। ১৯৭১ সালে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে নিজ এলাকায় রাজাকার পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশনেন অন্য সবার সাথে এক হয়ে। মুক্তিযোদ্ধার কোটায় এক সন্তানকে পুলিশে চাকুরী দেয়ার বিষয়টি শ্বীকার করেন তিনি।
তবে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাধাবল্লব এলাকার বাসিন্ধা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গ্রুপ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জিতেন্দ্রনাথ পাল জানান,১৯৭১ সালে ৭ মার্চের পরে ভারত থেকে ট্রেনিং গ্রহন করে তিনিসহ ৬৫ জন কচুয়া এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধ চলাকালীন কোন সময় দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযুদ্ধে অংশনেননি। জিতেন্দ্রনাথ দাবি করেন, যুদ্ধকালীন সময়ে দেলোয়ার হোসেন সুন্দরবনের ডাকাত সর্দার নুর ইসলামের সাথে বনে ডাকাতি সাথে জড়িত ছিলেন। জেলায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়ী ঘরে হামলা আর লুটপাট করেছেন। দেশ স্বাধীনের পর ডাকাত সর্দার নুর ইসলামের মূত্যুর পর দেলোয়ার তার(নুর ইসলামের) স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এবং নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় দেলোয়ার কখনো তার জন্মস্থান কচুয়া উপজেলায় আসতে পারেনি। মোংলাতে স্থায়ী বসবাস করতে থাকেন। এর পর সে ভুয়া কাগজ পত্র বানিয়ে কোন এক সময় মুক্তিযোদ্ধা সেজে গেছেন। এক সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় পুলিশে চাকুরী দিয়েছেন। দির্ঘদিন প্রতারনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সেজে থাকা দেলোয়ার হোসেন কে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ না দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিতেন্দ্রনাথ পাল।
এবিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিয়মনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদারকি করবেন তিনি।
এদিকে অভিযোগকারী সুদীপ সরকার জানান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দামকি দিচ্ছেন দেলোয়ার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। একই সাথে ঢাকায় একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার আত্বীয় কাজ করেন তাকে দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসককে ম্যানেজ করেছেন আর ওইসব অভিযোগ ঘায়েব করার কথা এলাকায় প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।##
জসিম উদ্দিন,মোংলা-১৬-০৯-২০২০

আরও পড়ুন...

হরিপুরে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ তলা মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন সুজন

Staff correspondent

শিবগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ | অতপরঃ কাজ শুরু

Staff correspondent

নড়াইলের পল্লীতে পচা মাংস বিক্রির অপরাধে ৩ কসাইকে গ্রেফতার ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Staff correspondent
bn Bengali
X