26 C
Dhaka
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, | সময় ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে আমরা কতোটা সচেতন!

প্রথমেই আমার একটা গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। আমার পরিবারের আমি তখন সর্বকনিষ্ঠ সদস‍্য। ছোট ভাই তখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি। যত দুষ্টুমি, সব আমার দখলে ছিলো। বলে রাখি আমার পরিবার ছ’সদস‍্যের একটি সুখী পরিবার। বটগাছের মতো ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আশি বছর বয়সী দাদি। গল্পটা ঠিক এখানেই। ছোট থেকেই দাদির সাথে কেমন জানি একটা বিরূপ  সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার সাথে বাজে কিংবা উঁচু গলায় কথা বলা ছিলো আমার নিত‍্যদিনের ব‍্যবহার। এভাবেই দিন কাটছিলো। ভুলেই গিয়েছিলাম যে মানুষটি আমাকে আদর-যত্নে মায়া-মমতায় গড়ে তুলেছেন তাকেই কষ্ট দিয়ে চলেছি। যিনি রাতে ঘুমানোর আগে গল্প শুনাতেন, সকালে জীর্ণ শরীর নিয়েই কোলে করে সারা পাড়া বেড়িয়ে নিয়ে আসতেন তার সাথেই এমন করে চলেছি। এভাবে চলতে চলতে সপ্তম শ্রেণীতে উঠে পড়লাম। আমাদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ের পাঠ‍্যসূচিতে তিন চার পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা পরিসরে অন্তর্ভুক্ত ছিলো প্রবীণ অধিকার নামে একটা অধ‍্যায়। এইতো সেই থেকে আমার পরিবর্তন শুরু। যখন স‍্যার পড়ানো শুরু করলেন নিজের অবস্থানটা যেন বুঝতে শুরু করলাম। জীবনের অন্তিম পর্যায়ে এসে প্রতিটি মানুষই যেন শিশু হয়ে যায়। প্রতিটি পদক্ষেপে শৈশবের স্মৃতি তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। নিঃসঙ্গতা চেপে ধরে। এইসময় পরিবারের সদস‍্যদের একটু সঙ্গতা, ভালো ব‍্যবহার দুটো একটা কথাতেই যেন তারা বড্ড সুখী হয়ে যান। একটু হাসিতেই হয়ে ওঠে জীবন পরিপূর্ণ। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নাগরিক। একটা সময়ে তাকেও বৃদ্ধ হতে হবে। মুছে যাবে সব। এই বয়সের ঠিক চাহিদাটা কি সেই ভাবনা থেকেই যেন এই প্রবীণ দিবসের সূচনা। আজ পহেলা অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’। বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পালিত হচ্ছে দিবসটি। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রবীণদের অধিকার, তাদের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন করতে নতুন স্লোগানের মাধ‍্যমে পৌঁছে দিচ্ছে জনগণের কাছে। এবারের স্লোগান হলো, “বৈশিক মহামারীর বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা”। কভিড -১৯ যখন পৃথিবীব‍্যাপী সয়লাব হয়ে উঠেছে তার বেশিরভাগই স্বীকার হচ্ছেন বিশ্বের এই প্রবীণ সমাজ। যৌবনে যে মানুষগুলো দেশের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন আজ তাদেরই শরীরে বাধছে অসুখের ফুলঝুড়ি। নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের শরীর। এই কভিড-১৯ এ বেশিরভাগ মৃত‍্যু এবং আক্রান্তের সংখ‍্যা এই বৃদ্ধ-প্রবীণ সমাজের। এই সংখ‍্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আমরা কেউ জানিনা। বাংলাদেশও যেন মৃত‍্যুর এই মিছিলে সামিল হয়েছে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে। বৃদ্ধ প্রবীণ সমাজের আক্রান্ত এবং মৃত‍্যুহার সবথেকে বেশি। পরিবারের অন‍্যতম সদস‍্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে তাদের সুযোগ-সুবিধা, কিছু লাগবে কিনা, শরীর ঠিকঠাক আছে কিনা এসব দেখভাল করা। করোনাকাল যেন আরো নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে সমাজের মাথা এই বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের প্রতি। একঘরে না করে আমরা প্রত‍্যেকে যদি প্রত‍্যেকের অবস্থান থেকে একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিই পৃথিবীটা হবে পুষ্পে ভরা বাগান। এই প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে আরো যা বলতে চাই, এই দিবসটা যেন শুধু দিবস হয়েই না থাকে প্রতিটা দিন যেন এই দিবসের কার্যকারিতা টিকে থাকে সেদিকে হতে হবে যত্নবান।

মাহমুদুল হাসান মিল্টনশিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন...

কে ছড়ালো করোনাভাইরাস?

Staff correspondent

ইব্রাহীম খলিল এর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করলো আনন্দ সংবাদ ডট কম

Staff correspondent

রুদ্র অয়ন এর কলাম ভয়াবহ ২১ আগষ্ট

Al Mamun Sun
bn Bengali
X