29.8 C
Dhaka
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, | সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ

টালমাটাল নৈতিক অবক্ষয় ! ! !

সাংবাদিক, মোহাম্মদ ছিদ্দিক হোসাইন (কাজল) :

যখনি গোটা পৃথিবী কোভিড -১৯ এ জর্জরিত তখনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জায়গায় ধর্ষণের হাঁ-হাঁ কার প্রতিধ্বনি ও আর্তচিৎকার মুখগহ্বর থেকে ফুসফুস আকারে অনল বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দৃঢ়তার সাথে সবকিছু চালিয়ে যাওয়া শাসকের মস্তিষ্কে নিউরনের স ালন নিস্তেত হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রনয়ণে হিমসিম পোহাতে হচ্ছে যা রাষ্ট্রের অবকাঠামো সুষম ত্বরণে চলার পথে ব্রেকজনিত বেগ সৃষ্টি করছে। কেননা আজকাল সৃষ্টির সেরা মনুষ্যজাতি প্রতিনিয়ত জবাবদিহিতার উর্ধ্বে উড্ডয়ন করে অতি সামান্যতম জ্ঞান আহরণে সমৃদ্ধ হয়ে শ্রেণিক্রমানুসারে নভোমন্ডলের সবচেয়ে ঘৃনিত কর্মে লিপ্ত হচ্ছে যার ভয়াবহতা ক্রমশঃ বেড়েই চলছে। মানবরচিত আইনের ধারার ফাঁক ফুকোর ভেদ করে সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তিবর্গ সময়ের ব্যবধানে সাপের খোলসের মত নিকৃষ্ট হোমোসেপিয়েন্সে পরিণত হতে শুরু করেছে। যা সাময়িকভাবে মুক্তি পেলেও অনন্তকালের জন্য কাটাযুক্ত ও পীড়াদায়ক ফলাফল তারূণ্যের জন্য কিংবা বার্ধক্য বয়সে কতটুকু যন্ত্রণাদায়ক তা বলা অসত্য নয় বটে কিন্তু চক্রকার ঘটনাপ্রবাহ পর্যায়কালে অনুমান নির্র্ভর চিন্তা অর্থ্যাৎ সমাজে বিলাসী গল্পের ন্যায় বৈসাদৃশ্য ফুঁটে তুলে হৈমন্তীর আর্বিভাব হউক তা কি কাম্য ?
করোনকালে জেকে বসা পুরো গ্লোবালাইজেশনে অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে যখনই কাটিয়ে উঠছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ঠিক তখনই ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকায় মানবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ নৈতিক অবক্ষয়ের অধঃপতন হতে চলছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অভাব অনটনে জর্জরিত দিশেহারা মানব যখন খানিকটা হতাশার গ্লানি মোচন করে ঝউএ বা,টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের দিকে যাচ্ছে ঠিক সেসময়েই ক্রমশঃ ধর্ষণ,খুন,দূনীতি,চিকিৎসায় জালিয়াতি সহ বহুমাত্রিক ঘটনা রেমডমলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় রাষ্টে বসবাসরত সিভিল সোসাইটির হ্নদয়ে ঝড়ো কম্পন অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে চর্তুদিকে সামাজিক মূল্যবোধ তথা নৈতিক শক্তি কি সত্যিই শূণ্যের কোটায় পর্যবসিত হয়েছে ?
গণতান্ত্রিক দেশে যে কোন ধরনের দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রধান মাধ্যম হল রাষ্টপ্রধান কিংবা নির্বাচিত সরকার। তাই রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম প্রধান কাঠামো হল আইন বিভাগ। কেননা যে দেশে আইনের যথোচিত প্রয়োগ ব্যার্থ হবে সে দেশে অপারাধের মাত্রা বহুগুনে ত্বরান্বিত হতে থাকবে যা বাস্তব সম্মত নয় কি ? কিন্তু এমনটি কেন? তা কি প্রশ্নাতিত নয় ? ৪৯ বছর পূর্র্বে পশ্চিম পাকিস্থানের সাথে প্রাণপন যুদ্ধ করে ঐতিহাসিকভাবে সত্য বাঙ্গালিরা লড়াকু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। কিন্তু চলমান ন্যাক্কারজনক ঘটনাপ্রবাহ নিশ্চয়ই লড়াকুদের সাদা মনে কলঙ্কজনিত ধর্ষণের তক্মা হতাশার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে হতাশায় পর্যবসিত হয়ে নাগরিকদের নিরবতা পালন করা রাষ্ট্রের জন্য নীতিবাচক দিক তাই না !
এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের ইতিবাচক দিক আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটানো যা কখনো স্বাধীন নাগরিকের নিকট খুব বেশি নিন্দিত হবে না। তবে ইতিবাচক মনমানসিকতা পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগী হওয়াটাই সময়ের প্রেক্ষাপটে ঈড়-ভধপঃড়ৎ এর মান নির্ণয়ের মত প্রধান ডায়াগোনাল হিসেবে গুরুত্ব বহন করবে। সেটিই হবে প্রকৃত সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ। নাগরিকের ভারসাম্য অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে উদীয়মান তরূণ ছাত্রসমাজ ভূয়সী ভূমিকা পালন করতে পারে এমনটি নয় কি !
মূলতঃ গতিময় শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে প্রণীত শিক্ষানীতি মালায় শিক্ষার সংখ্যা বাচক দিকগুলো খুব বেশি প্রাধান্য পেলেও গুণগত দিক থেকে চিন্তার জায়গাটা মন্দন হওয়ায় তারূণ্য মেজাঝ খিটখিটে পতিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে তরূণদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রূপায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় বর্তমানে তারা রাখাল বালকের মত গন্তব্যহীন পথে ছুটে গিয়ে সমাজে নিকৃষ্ট দ্রব্যের ঢাল নির্ণয়ের মত বাম থেকে ডানে উর্ধ্বগামী হয়ে দূর্বোদ্ধ ও জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে।
নৈতিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ের ঋণাত্নক প্রভাবক হল ধর্ষণ যা পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত। অর্থ্যাৎ উভয়ই ক্ষেত্রে ঐশীগ্রন্থের পাঠদান ও গুরত্বের নির্যাস বাধ্যতামূলক না হলে একাডেমিক শিক্ষায় বেড়ে উঠা নাগরিকদের শিরা -উপশিরায় কু-ধারণার জন্ম নেয়। যা দূরীভূতকরণ খুবই জটিল। তাছাড়া আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যে গতিতে ত্বরান্বিত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ সে গতিতে হয়নি। ফলে প্রযুক্তির অপব্যবহার সময়ের আলোকে অপরাধের মাত্রা চরম পর্যায়ে উপনিত হচ্ছে। যার ফলাফল ঋণাত্নক তথা খুবই ভয়াবহ। অনলাইন প্রযুক্তির দ্রুত ক্রমবিকাশমান যুুগে সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যহত রাখার জন্য সকল নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলছে না এমনটা নয় তো !
এছাড়া সুফলা-সুজলা শস্য শ্যামলা সোনার এই বাংলায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তারূণ্যদের বেড়ে উঠার পরিক্রমায় জবাবদিহিতার ভয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে রাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিমেয় হয়ে পড়ছে। কেননা আজকের তরূণরা ভাল-মন্দ কিংবা ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে সঠিক জ্ঞানের সন্ধান খুঁজে পাচ্ছে না। কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ থেকে বর্তমান শিক্ষানীতির আলোকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠলেও নৈতিক শিক্ষায় ভরপুর হয়ে জাতির কল্যাণে ধনাত্নক চিন্তায় স্পর্শক হওয়া অসম্ভব নয় কি?
হঠাৎ জাতীয় মানব সম্পদ তারূণ্যশক্তির গায়ে ধর্ষণের লেপন তা সায়েন্টিফিক্যালি কতটুকু বাস্তবসম্মত ? ধরি-একটা কনসার্টের আয়োজন করা হল। সেখানে চর্তুমুখী হয়ে দর্শক গ্যালারিতে শ্রোতাগণ বসে উদীয়মান শিল্পীদের গান উপভোগ করছে। এক্ষেত্রে শিল্পীরাই হল কেন্দ্র বিন্দু তথা মূল আকর্ষণ। সবার দৃষ্টি তরূণ শিল্পীদের ভাব -বঙ্গীমার দিকে। কেন্দ্র হতে নিকটবর্তী শ্রোতাগন পরস্পর আকর্ষণধর্মী বল হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তী পর্যায়ক্রমে অবস্থানরত শ্রোতাগণ হতে কেন্দ্র তথা শিল্পীদের মধ্যে আকর্ষণ বলের চাহিদা থাকলেও আচ্ছাদনের প্রভাবে অপেক্ষাকৃত বিকর্ষণ বলের ক্রিয়া দৃশ্যত হবে। কেননা বৃত্তের কেন্দ্র হতে শেষ কক্ষ পথে বিদ্যমান ইলেকট্রনের আকর্ষণ বল কম। যা রসায়নবিদ তথা বৈজ্ঞানিকভাবে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। অতএব চলমান ঘটনাবলি পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে রাষ্ট্রের তথা কেন্দ্রের অভিমুখী কর্মীরা বেশি আকর্ষণ বল যুক্ত। অন্যদিকে কেন্দ্র হতে পর্যায়ক্রমে দূরে পরোক্ষভাবে সমর্থনপুষ্ট কর্মীদের তথা নাগরিকদের আকর্ষণ বল বা শক্তি তুলনামূলকভাবে দূর্বল বা কম হবে যা মেনে নেওয়া সমীচীন নয় কি ? যদিও আচ্ছাদন প্রভাবের ঢাল পজেটিভ আকার ধারণ করে আকর্ষণধর্মী বল হিসেবে ক্রিয়া করবে। তাই বলা বাহুল্য যে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কিংবা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাষ্ট্রের সকল স্তরে জবাবদিহিতা,স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের পাশাপাশি ধর্ষণরোধে ইফেকটিভ নৈতিক শিক্ষার প্রত্যয় ঘটানো উচিৎ। যা পরিবর্তনের রূপরেখার দৃশ্যমান মডেল হিসেবে নাগরিকদের সমীপ্যে সঠিক উপায় বলে বিবেচিত হবে। যার ফলাফল নন-নেগেটিভ রুপ নিয়ে রাষ্ট্রের জন্য কাম্যবস্তু বলে পরিগনিত হবে। তাই নয় কি ? তথাপি সমাজে ন্যায়-নীতি ও জবাবদিহিতা মূলক জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। সকল স্তরে ভারসাম্যবজায় স্বরুপ কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় এমন নীতিমালা প্রণয়ন করে সম্মুখে উদ্ধাস্তু কাটাযুক্ত পথগুলো অতিক্রম করা শোভনীয় নয় কি?
অবশেষে মুখগহ্বর থেকে নিঃসৃত বিনয়ের সহিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতোই ধর্ষণের মত স্পর্শঘাতক বিষয়ে দল মত নির্বিশেষে জনবান্ধব আইন প্রয়োগ করে নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর হউন। আশা করি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গৃহীত প্রস্তাবগুলো তথা বার্তাগুলো বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে মন্দন হয়ে শূণ্য ত্বরণে পৌছানোর কারণ নতুন করে ভাবনার বিষয়। তাই আসুন প্রায় বিশ কোটি মানুষের মৌলিক দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ধর্ষণরোধে সর্বোচ্চ আইন মৃত্যুদন্ড সংসদে প্রস্তাবনা এনে ঐ ধারা সংবিধানে সংযুক্ত করুন এবং সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দিন। এটি হবে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল চাবিকাটি।

আরও পড়ুন...

সাহায্যের জন্য মানবিক আবেদন

Staff correspondent

করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু দরকারি তথ্য

Staff correspondent

সরদার বল্লভভাই প্যাটেল: আয়রন ম্যান অব ইন্ডিয়া

Staff correspondent
bn Bengali
X