27 C
Dhaka
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, | সময় ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

শেখ রাসেল জন্মদিন ও জ্ঞানের মশালের ৩য় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা

মোহাম্মদ ছিদ্দিক হোসাইন (কাজল) :

ইপিজেড থানার অধিভুক্ত ৩৯ নং ওয়ার্ডে অাবির্ভূত সামাজিক সংগঠন জ্ঞান মশালের একঝাঁক তরুণ ও উদীয়মান মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ থেকে দুই বছর পূর্বে উক্ত সংগঠনের সভাপতি আজাদ হোসেন রাসেল ও সেক্রেটারি ইফতেখার হোসেন জিসান তথা উভয়ের মেধার অাস্ফালন ঘটিয়ে সুষম ত্বরণে অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলা প্রিয় সংগঠন জ্ঞানের মশাল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেই চলছে। যা সমাজে বিরল। জাতির ক্লান্তিলগ্নে জ্ঞানের মশালের একঝাঁক স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারূণ্যের মধ্যে আচ্ছাদনের প্রভার প্রতিফলিত হয়ে ধর্ষণের মত নিগৃহীত কর্ম থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিকট বার্তা পৌছানোই ছিল আজকের আলোচনার মূল। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৯ নং ওয়ার্ডের সদ্য বিদায়ী ও পুনরায় নৌকার প্রতীক নিয়ে জনগণের আস্তার প্রতীক হাজি জিয়াউল হক সুমন।এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উক্ত থানার বিশিষ্ট মুক্তি যুদ্ধা আবু তাহের, কবির সহ আরও অনেকে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউল হক সুমন বলেন চলমান গুজবে কান না দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে সকলের ঐক্যমতের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যা প্রশংসনীয়। উক্ত সভায় বক্তারা আরও বলেন – ১৯৬৪ সাল । এক অস্থির সময় পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে। লড়াই আর যুদ্ধের উত্তেজনামুখর চারদিক। সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে অংশ নেয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। ১৯৬৪ সালে ১৮ অক্টোবর নির্বাচনী প্রচারণায় চট্রগ্রামে বঙ্গবন্ধুু। ঐ দিনই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি আলোকিত করে পৃথিবীর বুকে এক নতুন অতিথির আগমন। রাজনৈতিক ব্যস্ততায় প্রিয় সন্তানের জন্মদিনেও পাশে থাকতে পারেননি পিতা। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লেখক ছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। পৃথিবীর বিখ্যাত দার্শনিক, সাহিত্যে নোবেল পাওয়া বার্ট্রান্ড রাসেল পারমাণবিক যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনের একজন বড় ধরনের নেতাও ছিলেন । বিশ্বশান্তি রক্ষায় বিশ্ব মানবতার প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন এই মানবিক নেতা। বড় হয়ে নিজ শিশু পুত্র এমন মানবিকতার আলোয় আলোকিত হবে এই মহৎ আশায় বঙ্গবন্ধু তাঁর কনিষ্ঠ সন্তানের নাম রেখেছিলেন শেখ রাসেল। শিশু রাসেলের জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বাবাকে ছাড়া।রাজনৈতিক কারণে পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটেছে কারাগারে। তাই পিতাকে বেশি সময় কাছে পায়নি শেখ রাসেল। বাবাকে কাছে না পেয়ে মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেই আব্বা বলে ডাকতেন শিশু রাসেল । আদরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে নিয়ে অনেক বেদনাময় স্মৃতি এখনো দুচোখে অশ্রু ঝড়ায় বড় বোন শেখ হাসিনার দু’চোখে। নিজের লেখা “আমাদের ছোট শিশু রাসেলের দুরন্তপনা, বাইসাইকেলে ঘুরে বেড়ানো, নানান আবদার এখনো কাঁদায় বড় বোন শেখ হাসিনাকে। শেখ রাসেলের জন্মের যেমন ইতিহাস আছে, আছে নাম রাখারও ইতিহাস। তার চেয়ে করুণ ও বেদনার ইতিহাস আছে মাত্র ১১ বছর বয়সে মা বাবার লাশের পাশে ঘাতকের বুলেটে ঝাঝরা হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা বিরোধী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে সপরিবারে প্রাণ হারায় বঙ্গবন্ধু। ঘাতকদের নৃশংসতা থেকে রক্ষা পায়নি ইউনিভার্সিটি ল্যাব্রেটরি স্কুল এর চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেলও। নিজেকে বাঁচাতে সেন্টিপোস্টের পিছনে লুকিয়ে ছিলো ১১ বছরের এই শিশু। পরিবারের সবাইকে হত্যা করে ঘাতকরা খুঁজে বেড়ায় শেখ রাসেলকে। ঘাতকরা যখন তাঁকে খুঁজে পায় তখনও শেখ রাসেল জানেনা পৃথিবীতে আর বেঁচে নেই তার বাবা-মা। ভয় পেয়ে রাসেল কাঁদতে থাকে আর বলে “আমাকে মেরোনা, আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাও। ঘাতকরা টানতে টানতে নিয়ে যায় দোতলায়। বাবা মায়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে চমকে উঠে সে, কাঁদতে থাকে অঝোরে। নিষ্ঠুর ঘাতকরা মায়ের কাছে নিয়ে গুলি করে ঝাঝরা করে দেয় শেখ রাসেলকে। রাসেলের নিথর দেহ ঢলেন পড়ে মৃত মায়ের লাশের উপর। এমন নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। কী অন্যায় ছিলো নিষ্পাপ মায়াবী শিশু শেখ রাসেলের? সেই দিন কোথায় ছিলো মানবতা?? রাসেলের বুক ফাটা চিৎকার ও আর্তনাদের কোনো মূল্য ছিলোনা ঘাতকদের কাছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিশুপুত্র শেখ রাসেলের এই মৃত্যুর বেদনার ইতিহাস এখনো ঘাতক ও তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরীদের মনে কোনো রেখাপাত করতে পারেনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করে ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধের নামে শিশু রাসেল হত্যার বিচারও বন্ধ ছিলো। মানবাধিকার রক্ষার নামে যারা বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেন। সমালোচনায় তুলেন বিতর্কের ঝড়। আজ পর্যন্ত সেই সুশীল সমাজের কয়জন শিশু রাসেল হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন? বিচার চেয়েছেন সেই হত্যাকান্ডের? সমালোচনা করেছেন ক’জন মানবাধিকার নেতা? সেই দিন মানবাধিকার ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর হত্যার নীল নকশাকারী ও নেপথ্য কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের আজ সময়ের দাবি, ঠিক তেমনি শিশু রাসেলের হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। শিশু রাসেল আজ শিশু অধিকার আদায়ের প্রতীক। যখনই গণমাধ্যমে শিশু নির্যাতন বা হত্যার খবর প্রকাশিত হয়, আমাদের চোখে ভেসে ওঠে রাসেলের প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই শিশুর অধিকার, তাদের শিক্ষা , স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বাসযোগ্য পৃথিবীর নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু নির্যাতন বন্ধের কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন সরকার । শিশুদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাক শেখ রাসেল। শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিনে এমন প্রত্যাশা সকলের।

আরও পড়ুন...

এতিম সন্তান রহমতউল্লাহ এর দায়িত্ব নিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

Staff correspondent

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন ভাতার বই বিতরণ।।

Staff correspondent

সন্দ্বীপে মাতৃভুমি ক্লাবের উদ্যোগে গাছের চারা ও বীজ বিতরন সম্পন্ন।

Al Mamun Sun
bn Bengali
X