25 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, | সময় ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

খুলনায় রাজপথ অবরোধকালে পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর আটরা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন গেট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশ ২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা,  সিপিবি নেতা এসএ রশিদ, মিজানুর রহমান বাবু, বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, মো. আবুল হোসেন, মো. নওশের, শহীদুল, ওলিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, আল আমিন শেখ ও জাহাঙ্গীর সরদারসহ ১৫ জনকে আটক করেছে।

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আধুনিকীকরণ করে দ্রুত চালু, দুর্নীতি-ভুলনীতি-লুটপাট বন্ধ, শ্রমিকদের বকেয়া টাকা এককালীন পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ১৪ দফা দাবিতে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ এ অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি- পুলিশের হামলায় আহমেদ তাসনিম শ্যামল, নারী শ্রমিক নাজমা খাতুন, খাদিজা বেগম, হাফিজা বেগম, সুমি রায়, শেফালী বালা, সুচিত্রা বিশ্বাস, সাফিয়াসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আহমেদ তাসনিম শ্যামলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ৮-৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (উত্তর) সোনালী সেন বলেন,  শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়।

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতা গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল বলেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে  শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শ্রমিক নেতাদের দীর্ঘ সময় ইস্টার্ন মিলগেটে আটকে রাখে। সেখানে সাধারণ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করে। এ সময় ১০-১২ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ৮-৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ শুরু করেন। পুলিশ সবাইকে তুলে দেয়ার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পাটকলে লোকসান হয়েছে। লুটপাটের জন্য পাটকল ও পাটশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। অথচ বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের ওপর চাপাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের অন্যায় শাস্তির ফল ভোগ করছেন শ্রমিকরা। অবিলম্বে পাটকল চালুর দাবি জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা আরও জানান, করোনাভাইরাস মহামারীতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেয়ায় অনেক শ্রমিকের জীবন চলছে পেশার বদল ঘটিয়ে মানবেতরভাবে। কর্মহারা এই শ্রমিকদের কেউ কেউ সহজ পেশা হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন। কেউবা ফলবিক্রেতা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজেও নেমেছেন। আর এখনও কাজ জোগাড় করতে না পেরে বেকার জীবন পার করছেন অনেকে।

শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও শ্রমিক নেতা শামসেদ আলম, নাগরিক পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য মোজাম্মেল হক খান অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে গত ১৫ অক্টোবর বিকাল ৪টায় ফুলতলা ইস্টার্ন জুট মিল গেটে শ্রমিক সমাবেশ, ১৬ অক্টোবর বিকাল ৪টায় পিপলস গোল চত্বরে ছাত্র-যুব-নারী-কৃষক-ক্ষেতমজুর ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপস্থিতিতে সংহতি সমাবেশ এবং ১৭ অক্টোবর বিকাল ৪টায় রাজঘাট কেজি স্কুল চত্বরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন...

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাক প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লোপাট, ফিরলেন খালি হাতে।

Staff correspondent

ঝালকাঠি নলছিটি থানায় নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধী হেল্পডেক্স উদ্বোধন

Staff correspondent

নজরকাড়া সৌন্দর্য এ যেন সবুজের বুকে হলুদের সমাহার

Staff correspondent
bn Bengali
X