22 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০, | সময় ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

ভর্তি যুদ্ধে কৌশলী হওয়া !

মোহাম্মদ ছিদ্দক হোসাইন(কাজল) :

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ! কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সংক্রমিত ও চতুঃপার্শ্বে নিস্তব্ধ পিন পিন পরিবেশে কতখানি মলিন চেহারায় অদৃশ্যমান স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটিয়ে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি ব্যবস্থায় সুগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পরিচালিত মহান জাতীয় সংসদে সদ্য পাসকৃত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সম্পূরক বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়া সুক্ষ্ম বাজেটের অনুকূলে কতখানি পাখির ডানার ন্যায় নিজেকে মেলে ধরে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধিকে নিদিষ্ট সময়ে জাগতিক সব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে সেক্টর ভিত্তিক উন্নয়নের বীজ বপন করবে তা বলা সময়সাপেক্ষ। কেননা জাতির গোড়া পত্তনের মূল হাতিয়ার হল শিক্ষা। এটিই ব্যতীত কোন কিছুর বেগ বৃদ্ধি করলে তা কখনো পজেটিভ ফলাফল কিংবা আশাব্যঞ্জক নতুবা ধনাত্মক হয়ে বাম থেকে ডানে উর্ধ্বগামী হবে এমনটি নয়। অর্থ্যাৎ মোট বাজেটের শিক্ষা খাতে মাত্র ১১.৬৯ শতাংশ বরাদ্দ তথ্য প্রযুক্তির যুগে কতটুকু সম্মুখবর্তী পথ চলায় সহায়ক হবে তা কোভিড-১৯ এর অস্থিতিশীল চলমান পিরিয়ড ও উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নাড়া দিচ্ছে।

গতিময় শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কয়েক মাস পর ভর্তির বাম্পার ফলনের মৌসুম জয়জয়কার হবে। এই মৌসুমে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য চলমান পিরিয়ডে কোন বিষয় কিভাবে পড়তে হবে তা বাছাই করা খুবই জটিল এবং কুটিল। কেননা বর্তমান সময়টা আমতারুণ্যের নিকট যেমনই হোক একদল স্বপ্নবাজ তরুণের কাছে খুবই গুরুত্বহীন এমনটি নয় তো ! যদিও উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি অতিক্রম করে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যারা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তথাপি অাত্মবলিয়ানপ বলিষ্ঠের প্রয়োগ ঘটিয়ে তা প্রমাণের প্রয়াস করছ তাদের অবশিষ্ট জীবন পথে বর্তমান সময়টা পথ নির্দেশক হিসেবে ভূয়সী ভূমিকা পালন করবে। যা তারুণ্য শক্তি স্থির রাখার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ নতুবা ভর্তিযুদ্ধে কতটা কৌশলী হওয়া বাঞ্চনীয় তা জানান দিচ্ছে। তাই নয় কি ?

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

আজ তোমারা ধৈর্য্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে যেমন বীজ বপন করবে তেমনিভাবে ভবিষ্যতেও একই রূপে ফল পাবে তা সকলের তরে অলীক বস্তু নয়। বর্তমান সময়টুকু পর্যন্ত কঠোর অধ্যায়ন ও সাধনার মাধ্যমে যে যোগ্যতা তোমারা অর্জন করেছ তা তারুণ্যের বিবেকহীন ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে তথা বিজ্ঞ কৌশলীর ন্যায় প্রয়োগ ঘটাতে পার তাহলে প্রিয় মাতৃভূমির পাশাপাশি বিশ্ব পরিমন্ডলে নিজেকে স্থান করে নিতে পারবে। যা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে তোমাদেরকে মনে রাখতে হবে তোমারা তরুণ ! এখনো তোমাদের মাঝে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পরিপক্ব হয়নি। তাই তোমাদের প্রতি পরামর্শ হল স্বপ্ন বলতে প্রকৃতপক্ষে কিছুই নেই যদি তোমারা জাগ্রত না হও ! তোমারা নিদ্রায় নিমজ্জিত হয়ে খরগোশের মত চির উপমায় দৃষ্টান্ত হয়ও না। যা তোমারা স্বপ্ন দেখনি এমন স্বপ্নও তোমাদের দ্বারা প্রতিবিম্ব স্বরূপ বাস্তবায়ন হতে চলছে যা ডিজিটাল যুগে অকল্পনীয় কিংবা আশ্চর্যজনিত বিষয় নয়। যা তোমাদের চেষ্টা, সাধনা ও ধৈর্য্যের ফল।

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

নিজেকে তারকার ন্যায় আলোকিত করার যথোচিত সঠিক পথ ও উপযুক্ত বিষয় নির্ধারনের ক্ষেত্রে নির্বাচন তথা চয়েস মূখ্য ভূমিকা পালন করে। যা অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বিশ্লেষণে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এটা নির্ভর করবে তোমাদের আবেগ, ইচ্ছা,সামর্থ্য ও ধৈর্যের উপর। তাই দূরদর্শী দৃষ্টি সম্পন্ন একজন বিজ্ঞ ডাক্তার নতুবা বিজ্ঞ প্রকৌশলীর ন্যায় অবতীর্ণ হয়ে সৃষ্টির প্রতি আবেগ আপ্লুত প্রবণতা স্বরূপ প্রায়শ্চিত্তের বহিঃপ্রকাশের উন্মোচন না ঘটিয়ে ময়ুরের ন্যায় নৃত্য না করা। এমনকি কতখানি রোমাঞ্চকর হয়ে সম্মুখবর্তী পথ পাড়ি দিতে চাও সেটাও বিবেচ্য হিসেবে গণ্য। তাই সবকিছু বিবেচনা পূর্বক কুসুমাস্তীর্ণ ও কণ্টকযুক্ত সম্মুখের পথে শত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সীমিত যোগানের মধ্যে স্ব স্ব কেন্দ্রিক স্থান করে নিতে তারুণ্য নির্ভর সিদ্ধান্ত কতটুকু সহজ ও সরলীকরণ হবে তা না ভেবে তাজিংডং পর্বতের ন্যায় সর্বোচ্চ চুড়ায় কিংবা সোপানে পাড়ি জমানো নিতান্ত অঘারামের দেশে বোকাচণ্ডীর কাজ তা বলাবাহুল্য নয় কি ! যা একজন ক্ষুদ্র জ্ঞানে বেড়ে উঠা শিক্ষার্থীর হ্নদয়ে কতটুকু মৃদু ভূ-কম্পনের মত কম্পন সৃষ্টি করবে তা অনুভব করা খুবই জটিল ও দূর্বোধ্য। তদুপরি একদল স্বপ্নচারী তরুণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের অজানা স্বপ্নকে খুঁজে তা বাস্তবায়নে কৌশলি হতে হবে।কেননা জীবনে যে যত বড় পদে কিংবা উচ্চপদে অধিষ্ঠিত সে তত বেশি পরিশ্রমী এবং কৌশলী। সৃষ্টি জগতে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানবই পরিশ্রম, সাধনা ও ধৈর্য্যের গুণাবলি আহরণের মাধ্যমে সর্বোত্তম নৈরাশ্যবাদী তা নয়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ আইনস্টাইন।,নিউ টলস্টয়,চার্চিল,স্মিথ, ম্যাকেইবেলি,শেলি,ইবনে সিনা,জাবির ইবনে হাইয়ান,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম, দার্শনিক এরিস্টটল,প্লেটোসহ সবাই এর ব্যতিক্রমী নয়। সর্বোপরি বসুন্ধরার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব পর্যন্ত কঠোর ত্যাগ -তিতীক্ষার বিনিময়ে “শ্রেষ্ঠত্ব ” উপাধি পেয়েছিল। যা আজও সকলের নিকট চিরন্তন অসত্য এবং সর্বজনস্বীকৃত নয় তা কি বটে !

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

অধিক জনসংখ্যা কোন দেশের জন্য অভিশাপ নয়। বরং তা মানব সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তেমনিভাবে বর্তমানে অধিক তারুণ্য নির্ভরশক্তির সমন্বয়ে সুগঠিত একঝাঁক উদীয়মান তরুণ সায়েন্টিস্ট স্বপ্নে উদ্ভাসিত ডাক্তার, প্রকৌশলি,কবি, সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তবে সবকিছু এর অংশবিশেষ। গতিময় ও উন্নয়নশীল দেশ তথা বাংলাদেশে স্বাধীন মত প্রকাশ প্রতিবন্ধকতা প্রস্ফুটিত হওয়ার যে প্রবণতা দৃশ্যতঃ এমন দেশে প্রতিটি সেক্টরে তারণ্যরাই জয়জয়কার প্রেয়সী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যা বর্তমান প্রক্ষাপটে খুবই বিরল তা নয় কি ?

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

তোমারা প্রত্যেকে নিজ নিজ গুণে বড় হয়ে যথার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আত্ম স্বপ্ন পূরণের ন্যায় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বপরিমন্ডলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উড্ডয়ন করবে যা অপ্রত্যাশিত এমনটি নয় কি !

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

তোমারা হাল ছেড়ে দিওনা। তোমাদের মাঝে যে ধরনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও উর্বর শক্তি লুকায়িত রয়েছে তা আজও কাল দীপ্তিমান হবে। তোমাদের হ্নদয়ে স্বভাবতই ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হওয়ার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে তোমারা প্রিয় মাতৃভূমির নিকট নন্দিত হিসেবে সমাদৃত হবে। যাতপ করে তোমাদেরকে তির্যকভাবে বা ক্ষীনদৃষ্টিতে দেখবে না। তবে তোমাদের মনে রাখা উচিৎ যে, স্বপ্নে বা ভাগ্যে যেটাই দেখ কিংবা থাকুক না কেন সেটা যদি শতভাগ সফল না হয় তাহলে এমন কোন পথ অবলোকন করা সমীচীন হবে না যা অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতে চলে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা ঝোঁক যা সভ্য সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের চিন্তার ন্যায় ক্রিয়া না করে বিপরীত রূপে ক্রিয়া করবে যা মোটেও কাম্য নয়।

হে তরুণ শিক্ষার্থীবৃন্দ !

চল। জীবন পরিচালনায় তথা সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইচ্ছার অভিপ্রায়, ধৈর্য্য, সাধন এবং রবের দেওয়া অফুরন্ত সৌন্দর্য্যে ভরপুর ধরিত্রীর একচ্ছত্র পরিচালকের নিকট পাখিদের কলরবের মত শোরগোল ধ্বনিতে মেতে ওঠে তা প্রয়োগ ও অনুসরণের মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। যা স্রোতের অনুকূলে গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে সর্বাবস্থায় প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠে নিজেকে স্থির বেগে শূণ্য ত্বরণে গতিময় রেখে পৈতৃক -মাতৃক স্বপ্ন পূরণে উদ্যমী হওয়া কোন দূষণীয় কাজ নয়। লেখক : পরিচালক,ধ্রুবক স্বাপ্নিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান,চট্টগ্রাম।

আরও পড়ুন...

এই গ্রামে নেই কোনো রাস্তা!

Staff correspondent

ইব্রাহীম খলিল এর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করলো আনন্দ সংবাদ ডট কম

Staff correspondent

পেনশনের অর্থ পেতে শতবর্ষী মাকে টেনে ব্যাংকে হাজির মেয়ে!

Staff correspondent
bn Bengali
X